এই ব্লগটি সন্ধান করুন

মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০১৫

আলেম দের মোবাইল নাম্বার


আলেম দের মোবাইল নাম্বার


❂যে পোস্ট এ যাবৎ কেউ দেয়নি,তাই শেয়ার করে সংরক্ষণ করে রাখুন! ◘বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরামের ফোন নাম্বার! (কেউ প্রয়োজন ছাড়া ফোন করে বিরক্ত করবেন না)
☞শায়খুল হাদীস অাল্লামা শাহ আহমদ শফী দা.বা. (হেফাজত আমীর) →০১৮১৯৩২৩৬০১

☞মুফতী সৈয়দ রেজাউল করীম দা.বা.(পীর সাহেব চরমোনাই ও আমীর ইসলামী অান্দোলন বাংলাদেশ) →০১৮১৪৮৫১৫১৩

☞মুফতী আব্দুস সালাম দা.বা.(প্রাধান মুফতী হাটহাজারী মাদ্রাসা) →০১৮১৯৬৪০৩৫৬

 ☞শায়খুল হাদীস আব্দুল হাই দা.বা.(পাহাড়পুর ী) →০২-৯৫৫৪২৩০

☞ফক্বীহুল মিল্লাত মুফতী আব্দুর রহমান দা.বা. (বসুন্ধরা) →০১৮১৯২৫৮৪৪১

☞শায়খুল হাদীস আশরাফ আলী দা.বা.(কুমিল্লা) →০১৮১৯৮৯৮৩৬১

☞মুহিউসসুন্নাহ শায়খুল হাদীস মাহমুদুল হাসান দা.বা. (যাত্রাবাড়ী) →০১৭১১৫২৪১৭৬

 ☞মাওঃ আঃ জাব্বার জাহানাবাদী দা.বা. (বেফাক মহাসচিব) →০১৭০৪৭৫৯১৯৫

 ☞মুফতী আঃ মালেক সাহেব দা.বা. (মারকাযুদ্দাওয়াহ) →০১৭১২৮৪১৮৪৭

 ☞শায়খুল হাদীস জাকারিয়া সাহেব দা.বা.(মাদানীনগর মাদ্রাসা) →০১৭৩২১৬০২৯০

☞মাওঃ মহিউদ্দীন খান দা.বা.(সম্পাদক,মাসিক মদীনা) →০২-৭১১০৪৬০

☞শায়খুল হাদীস আঃ কুদ্দুস দা.বা.(ফরিদাবাদ) →০১৮১৯২৪৯৩৮১

☞মুফতী মাহফুজুল হক (প্রিন্সিপাল জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া)_> ০১৭১১১৫৪২০২



☞মুফতী ওয়াক্কাস সাহেব দা.বা. (জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম) →০১৫৫২৩৩০১৬৬

☞মুফতী মনসূরুল হক দা.বা. (মুহাম্মদপুর মাদ্রাসা) →০১৭১২৮৯৭১৮১

☞অাল্লামা ফরিদউদ্দীন মাসউদ দা.বা.(ইমাম শোলাকিয়া ঈদগাহ) →০১৭১৫০৪৩০৬৮

☞অাল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী দা.বা. (হেফাজত মহাসচিব) →০১৮১৫৯১৫৮২০

 ☞মুফতী আবু সাঈদ সাহেব দা.বা.(ফরিদাবাদ মাদ্রাসা) →০১৮১৮৬৮১৪৪৬

☞শায়খুল হাদীস শামসুল হক দা.বা.{বি-বাড়ীয় া(শহিদবাড়ীয়া)} →০১৭৫৩৮৭১০৫৮

☞অাল্লামা নুরুল ইসলাম ওলীপুরী দা.বা. (সিলেট) →০১৭১৮৯২৫৯৩২

☞মাওঃ নুর হোসাইন কাসেমী দা.বা. (বারিধারা) →০১৭১২৯৩২৩৩৫

☞মাওঃ আঃ আউয়াল সাহেব দা.বা.(পীর সাহেব,আড়াইহাজার) →০১৭১১১২৪৯৮১

☞আল্লামা আহমাদুল্লাহ অাশরাফ দা.বা. (আমীর,খেল াফত আন্দোলন) →০১৭১১৫৪৪২২৭

☞মুফতী ইজহারুল ইসলাম দা.বা.(চট্টগ্রাম) →০১৭১১২৬৩৪৫৩

☞হাঃ মাওঃ ফয়জুল্লাহ সাহেব দা.বা.(পীর,সন্দ ীপী) →০১৭১২৯৪৪০৫০

☞মাওঃ আঃ মতিন সাহেব দা.বা. (পীর,ঢালকানগর) →০১৭১১৬৯৫৯৮৬

☞মুফতী দেলোয়ার হোসাইন দা.বা.(অাকবর কমপ্লেক্স) →০১৭১১১৫৩০২৯

 ☞মুফতী আবুল ফাতাহ মুঃ ইয়াহইয়া দা.বা. (মালিবাগ মাদ্রাসা) →০১৮১৮৭৩২৫৩৩

☞মুফতী রফিউদ্দিন আহমাদ দা.বা. (ঢালকানগর মাদ্রাসা) →০১৯৮১২০৮১৮৯

 ☞মুফতী শহীদুল ইসলাম দা.বা.(সাবেক এমপি) →০১৯২৫৯৪৬৪৩৭

☞মুফতী কামাল উদ্দীন রাশেদী দা.বা. (যাত্রাবাড়ী) →০১৭২০১৫৩০২৭

☞মুফতী বোরহান উদ্দীন রাব্বানী দা.বা. (জামিয়া আবু বকর রাঃ) →০১৭১২৫৫৬৪১৮

 ☞মুফতী মিজানুর রহমান সাঈদ দা.বা.(ঢাকা) →০১৮১৯২৫১০৭০

☞মুফতী হিফজুর রহমান দা.বা. (জামিয়া রাহমানিয়া) →০১৭১৬৩২৯৮৯৮

☞মুফতী ইমরান মাজহারী দা.বা. (মিরপুর) →০১৭১১৯৬৯৪৭৪

☞মুফতী কেফায়াতুল্লাহ দা.বা.(হাটহাজার ী মাদ্রাসা) →০১৯২৪১৪১৪৮৭

☞মুফতী ফয়জুল করীম দা.বা.(নায়েবে আমীর ইসলামী অান্দোলন) →০১৭১২০১৮০৯৮

আমার শিক্ষকগন

☞মাও: লিয়াকত আলি : ০১৮১৭০৪০১৮০


*বিঃদ্রঃ আপনার কাছে অনুরোধ বরকত হিসেবে নাম্বারগুলি কাছে রাখবেন,ভুলেও মিস কল দিবেন না

সোমবার, ২৯ জুন, ২০১৫


কওমি মাদরাসা

কওমি মাদরাসা নিয়ে আমার যতো প্রতিবেদন


সমাজবান্ধব শিক্ষার দরিদ্রবান্ধব চিত্রায়ন
রোকন রাইয়ান

মিরপুর মাদরাসা দারুর রাশাদের সাবেক ছাত্র আল আমিন। বাবা প্রাইমারি স্কুল টিচার। ভালো ব্যবসাও আছে। তাকে এলাকার স্কুল পড়–য়া এক চাচাত ভাই বলেছিল, মাদরাসায় কেন পড়িস! এখানে তো পড়ে গরিবরা। আল আমিন সেদিন তার কথার কোনো জবাব দেয়নি। লজ্জায় লাল হয়েছে। একদিন দুইজনেরই পড়ালেখা শেষ হয়। আল আমিন এক মাদরাসায় চাকরি নেন। বেশ সুনামের সঙ্গেই শিক্ষকতা করেন। টাকা পাঠান বাড়িতে। কিন্তু সেই চাচাত ভাই অনার্স মাস্টার্স শেষ করে বাড়িতে বসা। অনেক জায়গায় বায়োডাটা নিয়ে ঘোরাঘুরিও করেছেন। চাকরি হয়নি। শেষে এলাকার এক বেসরকারি স্কুলে চাকরি ঠিক হয়। তবে সেখানে ঘুষ দিতে হবে পাঁচ লাখ টাকা। সে জন্য ফসলি জমি বেচেন তার বাবা।
সেই ঘটনা দেখে আল আমিনের মুখ লাল হয়নি। মুচকি হেসে চাচাতো ভাইকে বলেছেন- মাদরাসায় তো গরিবরা পড়ে, পড়া শেষে মাদরাসা তাকে ধনী বানায়। কিন্তু স্কুল তো তোদের গরিব বানাল।
আল আমিন বলেন, মাদরাসায় গরিবরাই পড়ে এটা উড়ো কথার মতোই। একটা প্রতিষ্ঠানকে ধনী-গরিবে চিহ্নিত করা বেমানান।
বিষয়টিকে এভাবেই দেখলেন রাজধানীর জামিয়া ইকরার ২০১০ সালের দাওরা সমাপনকারী মাওলানা মুহাম্মদ আনুপ। তার মতামত হলো কোনো একটা প্রতিষ্ঠানকে ধনী-গরিবে চিহ্নিত করা বোকামি। এখানে সব ধরনের লোকই আসবে। শিক্ষা নেবে। তিনি তার উদাহরণ টেনে বলেন, আমার বাবা ঢাকার কেরাণীগঞ্জে আটটি ব্রিকফিল্ড-এর মালিক, একটি রিয়েল অ্যাস্টেট কোম্পানিও রয়েছে। ঢাকায় বাড়ি এবং গাড়িও রয়েছে। কিন্তু আমাকে তিনি কওমিতে পড়িয়েছেন। এর জন্য কারো তশকিলেরও দরকার হয়নি।

দেশে তিন ধারার শিক্ষা ব্যবস্থার একটি কওমি মাদরাসা। সাম্প্রতিককালে এর বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগের স্রোত উঠেছে। বড় অভিযোগ এ শিক্ষা ব্যবস্থা দরিদ্রবান্ধব। এখানে কেবল এতিম আর গরিবরাই আসে। দান খয়রাতে নির্ভরশীল থাকে মাদরাসাগুলো। এর আগে সরকারি বা জরিপ সংস্থাগুলোর কোনো ধরনের পদক্ষেপ না থাকায় বিষয়টি এভাবেই নিয়েছে সাধারণ মানুষ। তবে লিখনীর পক্ষ থেকে একটি জরিপ করলে বেড়িয়ে আসে বড় ধরনের পার্থক্য। বেড়িয়ে আসে অবাক করা তথ্যও। জানা যায়, এক সময় ছোট পরিসরে মাদরাসাগুলো প্রতিষ্ঠিত হলেও বছর দশেক পর থেকেই এটি সমাজের সব শ্রেণীর মধ্যে বিস্তৃত হতে থাকে। বর্তমানে মাদরাসার ছাত্রদের মধ্যে ধনিক শ্রেণীর সংশ্লিষ্টতা বাড়ছেই না বাড়ছে অত্যাধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মাদরাসার সংখ্যাও। সমাজের নিন্মশ্রেণীর পাশাপাশি এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে এলিট শ্রেণী। আর এর প্রধান কারণ মাদরাসাছাত্রদের নীতি আদর্শ ও নৈতিকতা।
বেফাকুল মাদারিস ও শিক্ষা জরিপ সংস্থা বেনবেইস-এর তথ্যমতে বাংলাদেশে কওমি মাদরাসার ছাত্র সংখ্যা ১৪ থেকে ২০ লক্ষাধিক। নুরানি, হিফজখানা মিলিয়ে মাদরাসার সংখ্যা ২০ থেকে ২৫ হাজার। বিপুল সংখ্যক এই মাদরাসার ভেতর থেকে এতিম-গরিব চিহ্নিত করা দুষ্কর। তবে রাজধানীসহ আশপাশের প্রায় ৫০টি মাদরাসার জরিপে দেখা যায় ৮০ পার্সেন্ট ছাত্র আসছে উচ্চ ফ্যামিলি থেকে। উল্লেখিত মাদরাসাগুলোতে এতিমের সংখ্যা ১০ পার্সেন্ট। জরিপকৃত মাদরাসাগুলোর অধিকাংশ শিক্ষকই জানিয়েছেন, কওমি মাদরাসায় ফ্রি খাওয়ার একটা ব্যবস্থা রয়েছে। এটা তারা সমাজের দায়বদ্ধতা থেকেই করে থাকেন। কেননা এসব মাদরাসায় বিশাল একটা শ্রেণী ডোনেশন করে থাকে। তাদের ডোনেশন সঠিক খাতে ব্যয়ের জন্যই এই ব্যবস্থা।
অধিকাংশ মাদরাসাতেই ছাত্রদের ফ্রি খাবার নির্ধারণ করা হয় মেধার ভিত্তিতে। গড় নাম্বার আশির উপরে থাকলে ফ্রি খাবারের ব্যবস্থা হয়। কিন্তু এদের মধ্যেও অনেকেই টাকা দিয়ে খায় বলে জানা গেছে। তবে দেশের প্রায় সব মাদরাসাতেই সকালের নাস্তা ও আবাসিক চার্জ দিয়ে থাকতে হয়।
রাজধানীর বৃহৎ মাদরাসা জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া সাত মসজিদ মুহাম্মদপুরের দাওরায়ে হাদিসের ছাত্র মাওলানা ওমর শাহ জানান, জামিয়া রাহমানিয়ায় ১২০০ ছাত্র রয়েছে। এদের মধ্যে বোর্ডিং থেকে খাবার ক্রয় করে খায় ৭৩২ জন শিক্ষার্থী। বিশেষ ব্যবস্থায় ফ্রি খাবার পায় ৪৪২ জন। বাকিরা হোটেল বা অন্যান্য বাসাবাড়ি থেকে ক্রয় করে খান।
জরিপে অংশ নেয়া ছাত্ররা আরও জানিয়েছেন, ইদানীং গরিব পরিবারগুলোর মধ্যে এই কথা ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে যে, কওমি মাদরাসায় পড়লে চাকরি পাওয়া যায় না। সে কারণে দেখা যায় ওই পরিবারগুলোর চাহিদা থাকে অন্যদিকে। আর উচ্চ শ্রেণির কর্তারা ঝুঁকছেন মাদরাসাগুলোর দিকে। যারা অধিকাংশই সরকারি চাকুরে বা বড় ব্যবসায়ী।

এসব বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ‘ইত্তেফাকুল উলামা বৃহত্তর মোমেনশাহী’র শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা লাবীব আবদুল্লাহ বলেন, মানুষ যাই করুক দিন শেষে একটা আত্মতৃপ্তি খোঁজে, এ জন্যই মাদরাসায় আসে। আর যারা একে গরিববান্ধব বলেন তাদের বলব, আমাদের রাষ্ট্রই তো বিদেশি ঋণের ওপর চলে। এখানকার প্রতিটি মানুষ বেড়ে উঠে ঋণ আর ধার করা টাকায়। একটা প্রতিষ্ঠানের বেলায় এমন প্রশ অনুচিৎ। ইদানীং কওমি মাদরাসায় যারা পড়েন তাদের অনেকের আসবাব ও চলাফেরার স্টাইল অন্যদের চেয়ে অনেক ভালো।
জরিপে আরও জানা যায়, ইদানীং দেশের সব জেলাতেই উন্নত কাঠামো ও অত্যাধুনিক কারিকুলামে তৈরি হচ্ছে অনেক মাদরাসা। যেসবে উন্নত খাবার ও আবাসন সুবিধাসহ যোগ হচ্ছে নানান সুবিধা। এসব মাদরাসায় ফ্রি থাকা-খাওয়ার কোনো সুযোগ সুবিধা নেই। খাবার ও আবাসিক চার্জ পড়ে ৩ থেকে ৪ হাজারের মতো। এছাড়াও সারা দেশে অবস্থিত মহিলা মাদরাসাগুলোতে কোনো প্রকার ফ্রি খাবারের সুযোগ নেই। আশ্চর্য হলেও সত্য এই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোতে দিনদিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। এমনি একটি মাদরাসা রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত। নাম ‘মাদরাসাহ কুরআনিল কারিম’। এর প্রিন্সিপাল মাওলানা আতিকুল্লাহ জানান, আমার মাদরাসায় প্রায় ২০০ জন ছাত্র রয়েছে। মাদরাসার বয়স চার বছর। এখানে সব ছাত্রই আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা চার্জ দিয়ে থাকছে। তিনি তৃপ্তি প্রকাশ করে বলেন, আলহামদুলিল্লাহ ভালো রেজাল্টের কারণে এখানে ছাত্র সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
কওমিকে যারা দরিদ্রবান্ধব বলে অপপ্রচার করেন তাদের জন্য চমৎকার জবাব রয়েছে মাদরাসার ইতিহাসে। কেবল এটাই নয় কওমি ছাত্রদের মধ্যে থেকে উঠে আসা ব্যক্তিরা সরকারের বিভিন্ন উচ্চ পদে রয়েছেন এবং সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন এমন লোকের সংখ্যাও হাতেগোনা নয়। জানা যায়, কওমি মাদরাসা থেকে ইতোপূর্বে মাওলানা উবায়দুল হক জালালাবাদি, মাওলানা আতাউর রহমান খান, মাওলানা রুহুল আমিন মাদানী, মুফতি ফজলুল হক আমিনী, মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, মুফতি শহিদুল ইসলাম, মাওলানা শাহীনুর পাশা প্রমুখের মতো অনেক আলেম সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং এলাকা ও সমাজ উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। রাজনীতির ময়দানেও আলেমরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছেন এবং তাদের ডাকে লক্ষ লক্ষ লোকের সমাবেশের নজিরও রয়েছে। মাদরাসা ছাত্ররা এসব স্মরণ করে বলেন, প্রশাসনের বিরূপ দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তে সামান্য সহানুভূতি পেলে এমন অনেক আলেম রাষ্ট্রের উঁচু পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা রাখেন।
কওমি মাদরাসার আলেম বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের চেয়ারম্যান মুফতি গোলাম রব্বানী এ বিষয়ে বলেন, আসলে কওমি মাদরাসাকে যারা দরিদ্রবান্ধব বলেন আর অবহেলার দৃষ্টিতে দেখেন তাদের জানার পরিধি কম। এটা অনস্বীকার্য যে একটা শিক্ষায় সব ধরনের ছেলেরাই আসে। সেখানে গরিব আর মেধাহীন শিক্ষার্থীও থাকে। এটা স্কুল কলেজেও অহরহ আছে। এর জন্য কওমিকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। আর সমাজের মূল জায়গাগুলোয় তারা আসতে পারছেন না এর কারণ এদেরকে কোনঠাসা করে রাখার প্রবণতা। সরকার কওমি সনদের স্বীকৃতি দিচ্ছে না। ফলে এরা বড় কাজে আসার সুযোগ কম পাচ্ছে। তবে অনেক ছেলেই কিন্তু বিকল্প উপায়ে এসব জায়গায় আসছে। যেমন আমার কথাই ধরি, কওমি শেষ করে আলিয়া থেকে আলিম পড়ে ঢাবিতে যখন ১১০০ নাম্বারের পরীক্ষা দিলাম তখন আমার কেবল ইতিহাস বিষয়টা বাড়তি পড়তে হয়েছিল। এছাড়া অন্য সাবজেক্টগুলো পড়তে হয়নি। তার মানে এর চাহিদাগুলো কওমিতেই পূরণ হয়ে গেছে। সুতরাং এখানে কেবল কিছুই হচ্ছে না, হবে না এসব গৎবাঁধা শব্দে কওমি আটকিয়ে লাভ নেই। তাদেরকে সুযোগ করে দেয়া উচিত। তাহলে এরা রাষ্ট্রেরই সম্পদে পরিণত হবে

খয়রাতি শিক্ষা কওমি না স্কুল?

কওমি মাদরাসাগুলোকে যে কারণে অনেকে খয়রাতি শিক্ষা বলেন, তার প্রধান হলো জনসাধারণের দান। মূলত মাদরাসাগুলো ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা ও তাদের সততার কারণে মানুষ এ প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাশীল। তাই এখানে সরাসরি আর্থিক সহায়তা করেন তারা। যা কোনো মাধ্যম ছাড়া উপস্থিত হয়। কিন্তু একই প্রশ্নে অভিযুক্ত হয় দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলগুলো? শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুারো’র ২০১১ সালের দেয়া তথ্য অনুযায়ী দেশে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক কোটি ৬৯ হাজার ৫৭ হাজার ৮৯৪ জন। অন্যান্য স্তরের মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত রয়েছে ৭৫ লাখ ১০ হাজার ২১৮ জন শিক্ষার্থী। স্কুলের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরগুলোতে প্রায় দুই কোটি ছাত্র/ছাত্রী ফ্রি পড়ালেখা করছে। তাদের কোনো প্রকার বেতন-ভাতা দিতে হয় না উপরন্তু এদের ঝরে পড়া রোধ করতে সরকারি উদ্যোগে চাল-গম ও উপবৃত্তি চালু রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাবৃত্তি এবং ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠন কেন্দ্রিক শিক্ষা উপকরণসহ আর্থিক সহায়তা প্রদান। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, এই দুই কোটি শিক্ষার্থী ফ্রি পড়ালেখার খরচ দিচ্ছে সরকার, সেই সঙ্গে শিক্ষকদের বেতন ভাতাও, কিন্তু সরকার টাকাটা পাচ্ছে কোথায়? এই টাকাও সাধারণ জনগণের গায়ের ঘাম শুকানো টাকার অংশ। মানুষ নিত্য প্রয়োজনীয় যেসব পণ্য কিনছে সেসব থেকে বড় একটা অংশ কর হিসাবে যাচ্ছে সরকারের কাছে। সেই জনগণের টাকাই বিভিন্ন হাতঘুরে যাচ্ছে স্কুল, বিদ্যালয়গুলোতে। এখানে কোনো রকম বাছ-বিছার না থাকায় আসছে ঘুষ-চুরি ও দুর্নীতির টাকাও। যে কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে পড়ে কিছু কিছু ছাত্র বিপথগামীতার দিকেও ধাবিত হচ্ছে। হারাচ্ছে মেধা ও উৎপাদন ক্ষমতা এবং নৈতিকতাবোধ। সমাজে অপরাধমূলক কর্মকা- বাড়ার দায়ও নিতে হচ্ছে এদের অনেককেই।
এ বিষয়ে কথা বললে বিশিষ্ট আলেম গবেষক ও দেশ অধ্যয়ন কেন্দ্রের চেয়ারম্যান মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী লিখনীকে বলেন, কওমি মাদরাসা সূচনাকালে এমনটা থাকলেও এখন এ কথা বলার সুযোগ নেই। এ ধারায় বর্তমানে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ সম্পৃক্ত। এর চেয়ে বড় বিষয় কওমি মাদরাসায় যে পরিমাণ দান আসে তার চেয়ে বেশি দান যায় স্কুল-আলিয়ায়। তবে সেটা অদৃশ্য হওয়ায় চোখে পড়ে না। আর কওমি মাদরাসায় আসে সাধারণ জনগণের ভেজালমুক্ত উপার্জনের টাকা। যেটা তারা মনের তৃপ্তির জন্য দিয়ে থাকেন। সুতরাং এর জন্য কওমি মাদরাসাকে দরিদ্রবান্ধব বলা অনুচিত ও বোকামি।

শিক্ষাবৃত্তি ও ঝরে পড়া রোধ প্রসঙ্গ

দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য দেশে সরকারি ও বেসরকারি অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরেই চালু আছে শিক্ষাবৃত্তি। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন মেয়াদে ঋণ দিয়ে থাকে শিক্ষার্থীদের। মজার ব্যাপার হলো এই শিক্ষাবৃত্তি বা ঋণের কোনো তালিকাতেই নেই কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। সবই স্কুল কলেজ বা আলিয়া মাদরাসার দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য। বর্তমানে স্কুলের দরিদ্র শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এসবের মধ্যে ডাচবাংলা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, এইচএসবিসি ব্যাংক ও গ্রামীণ ব্যাংকের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠান। ব্যাংক ছাড়াও আছে বিভিন্ন কোম্পানি। যারা নিয়মিত দরিদ্র ছাত্র/ছাত্রীদের অর্থ সহায়তাসহ বিভিন্ন রকম প্যাজেক সুবিধা দিয়ে থাকে। এখানে রয়েছে ব্যক্তি কেন্দ্রিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যারা নিয়মিত দরিদ্র ছাত্রদের নিয়ে কাজ করে থাকে। আর এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে জনগণের ডোনেশন ভিত্তিক। সেটাও এক ধরনের খয়রাত। এমন পদ্ধতির খয়রাতি টাকায় শিক্ষিত হওয়ার নজির কওমি শিক্ষার্থীদের নেই। হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন নামের রাজধানীর একটি শিক্ষা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান প্রতিবছর ৬০ জন দরিদ্র শিক্ষার্থীকে ঋণ দিয়ে থাকে। ডপ্স নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান দরিদ্র শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতি মাসে দুইশ’ থেকে তিনশতাধিক ছাত্র/ছাত্রীকে খাতা ও কলমের যোগান দেয়। এ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান সেনাসদস্য শাহিন মিয়া লিখনীকে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, শিক্ষার ধনী-দরিদ্র নেই। সবাই শিক্ষা অর্জন করবে। যেখানে যেভাবে সুযোগ পায়। স্কুলের যে সবাই উচ্চ পরিবারের এমন হলে তো আমরা এ ধরনের সহায়তামূলক কাজ করতাম না।
দেশে হিউম্যান বা ডপ্সের মতো হাজারো সামাজিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা সাধারণ শিক্ষার জন্য এমন দান-খয়রাত বা ডোনেশনের ব্যবস্থা করে থাকে।

স্কুলগুলোতে প্রাথমিক থেকে ঝরে পড়া রোধ করতে সরকারি বা বেসরকারিভাবে নানান উদ্যোগ চালু আছে। এই উদ্যোগগুলোর জন্য খরচ করতে হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। দেশের প্রাইমারি লেবেলে সব ছাত্রছাত্রীর জন্যই রয়েছে উপবৃত্তি। আবার অনেক জায়গায় রয়েছে টিফিন। বিভিন্ন জায়গায় কর্মশালা, সেমিনার ও উঠোন বৈঠকও করা হয়। ব্র্যাক বা আনন্দ স্কুলগুলোতে ছাত্র/ছাত্রীদের ধরে রাখতে প্রতিদিন টিফিন বা মাসিক বেতন সিস্টেম চালু করেছে। ২০১১ সালে সরকারি উদ্যোগে শিশুদের ঝরে পড়া রোধ করতে শিখনকেন্দ্র নামের একটি প্রকল্প খোলা হয়। যাতে ব্যয় ধরা হয় ১৪৮ কোটি টাকা।
অথচ এরই বিপরীতে কওমি মাদরাসাগুলোর লাখ লাখ ছাত্রের কোনো ঝরে পড়ার ইতিহাস নেই বললেই চলে। আর এখানে এরকম কোনো উদ্যোগ, অর্থ খরচ, টাকা-নাস্তা বা বিনোদন ইত্যাদি প্রলোভন দিয়ে ক্লাসে আনার ঘটনাও কল্পনাতীত। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্নভাবে যেখানে ঝরে পড়া রোধে নানা রকম কসরৎ করেও শেষ রক্ষা হচ্ছে না সেখানে বিনাশ্রমে কওমি ছাত্রদের শিক্ষা অর্জন মানুষকে অবাক ও বিস্মিত করে তোলে।

মাদরাসায় এতিম শিক্ষার্থী সমাচার

কওমি মাদরাসাগুলোতে বিশাল জনগোষ্ঠীর একটা অংশ রয়েছে এতিম। যারা কোনো রকম অর্থ ছাড়াই শিক্ষালাভের বড় ধরনের সুযোগ পাচ্ছে। রাষ্ট্রীয়ভাবেও এতিমদের জন্য চোখে পড়ার মতো কোনো উদ্যোগ নেই। তবে সরকারি বেসরকারিভাবে কিছু এতিমখানা রয়েছে যেগুলোতে সামান্য সংখ্যক শিশু সুযোগ পাচ্ছে পড়ালেখার। যা চাহিদার ১০ পার্সেন্টও পূরণ করতে পারছে না। অথচ এই শিক্ষা ও সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের এগিয়ে নিতে কাজ করছে কওমি মাদরাসা। এ বিষয়ে কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের সহকারী মহাসচিব মাওলানা আবুল ফাতাহ মুহাম্মদ ইয়াহইয়া বলেন, মাদরাসায় এতিমরা পড়ে এটা নিয়ে যারা বিদ্রুপ করে তারা মুর্খ। বরং মাদরাসাগুলো হাজারো ছিন্নমূল শিশুকে কুড়েঘর থেকে উঠিয়ে সমাজের বড় অংশের সঙ্গে মিলিয়ে দিচ্ছে। শিক্ষা-দীক্ষায় উঁচু বানিয়ে দিচ্ছে। এটা অনেক বড় কৃতিত্বের।
তিনি বলেন, আসলে এই মাদরাসাগুলো হলো সমাজবান্ধব। একে এক ধরনের মিডিয়া দারিদ্রের প্রতিভূ বলে অপপ্রচার করছে। যা আদৌ ঠিক নয়

সিলেবাস সংস্কার : স্বীকৃতির আগে না পড়ে


দেশে শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে কওমি মাদরাসা। তবে এ শিক্ষা ব্যবস্থার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। এ নিয়ে আন্দোলন হয়েছে। হয়েছে রাজনীতিও। বর্তমানে স্বীকৃতি বিষয়ে কাছাকাছি চলে এলেও অনেকটা তীরে এসে তরী ডোবার মতোই অবস্থা। এসব নিয়ে সাপ্তাহিক লিখনী প্রকাশ করছে ধারাবাহিক প্রতিবেদন। এবার ছাপা হলো ৪র্থ কিস্তি। লিখেছেন- রোকন রাইয়ান

কওমি মাদরাসার আদি সূচনা আসহাবে সুফফা থেকে। রাসুলের যুগ থেকে। রাসুলের সা. প্রাথমিক যুগে মূলত মদীনা রাষ্ট্রের ভৌগলিক সীমা ছিল কয়েকশ বর্গ কিলোমিটার। ওখানকার কার্যক্রম, আচার-আচরণ ও সংস্কৃতিও ছিল একটা নির্ধারিত সীমানার ভেতর। সাহাবারা কোনো সমস্যায় পড়লেই ছুটে যেতেন রাসুল সা. এর কাছে। সমাধান হয়ে যেত মুহূর্তেই। তবে খলিফা ওমর রা. এর যুগে ইসলামিক রাষ্ট্রের ভৌগলিক সীমা রেখা বাড়তে থাকে। বিজয় হতে থাকে নতুন নতুন অঞ্চল। সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে সভ্যতা-সংস্কৃতির পরিধি। যে কারণে বিস্তৃত হতে শুরু করে ইসলামী সভ্যতা-সংস্কৃতির। ফলে ইরাকে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে। সেখানকার শিক্ষক ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.। তবে ছাত্র সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকলে আলী রা. এখানে আসেন। তখন তাকে প্রায় ১২ হাজার মুহাদ্দিস শুভেচ্ছা জানান। এভাবেই এ শিক্ষা চলতে থাকে খেলাফতে রাশেদার সময়। তবে খেলাফত রাষ্ট্র ব্যবস্থা দূর্বল হতে থাকলে ইসলামী চেতনায় ভাটা পড়তে থাকে। সেই চাপ পড়ে এ শিক্ষার ওপরও। রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে এ শিক্ষাব্যবস্থা ব্যক্তিকেন্দ্রিকে চলে আসে একপর্যায়ে। তবে পরবর্তীতে ১০১৯ সালে আফগানিস্তানে সুলতান মাহমুদ গজনবী ও তার ছেলে বাদশাহ মাসউদ এই শিক্ষা ব্যবস্থার হাল ধরেন। তারা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে এ শিক্ষার ব্যয় বহন করেন। তখন থেকে ২০০ বছর পর্যন্ত স্বর্ণযুগই পার করেছে এ শিক্ষা ব্যবস্থা।
তবে রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হতে থাকে সবকিছু। একসময় রাষ্ট্র যেমন সরে পড়ে এ শিক্ষার ব্যয় বহন করা থেকে তেমনি জনসাধারণ বিপুলভাবে সম্পৃক্ত হতে থাকে। এসবের পাশাপাশি এ শিক্ষা ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন হয়। হিজরি ৬ষ্ট বর্ষে সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাদশাহ নূরুদ্দিন জঙ্গি রহ. এ শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কার করেন এবং এর পরিধি বিস্তৃত করেন। সেখান থেকেই আনুষ্ঠানিক হাদিসের দরস চালু হয়। তিনি একটি দারুল হাদিস চালু করেন। এখান থেকেই বড় বড় মুহাদ্দিস তৈরি হতে থাকে। বাদশাহ নূরুদ্দিন রহ. একটি ছাত্রাবাসও চালু করেন। তৈরি করেন বিশাল পাঠাগার। পরবর্তিতে আল্লামা ইবনে আসাকির মিসরের কায়রোতে ৬২২ হিজরিতে দারুল হাদিস নির্মাণ করেন। একই হিজরিতে দামেস্কে মাদরাসায়ে আশরাফিয়া নামে একটি দারুল হাদিসের উদ্বোধন করা হয়। সেখানে হাদিসের দরস পরিচালনা করেন ইমাম নববী রহ.।
বর্তমানে সারা বিশ্বে রয়েছে এ শিক্ষার বিস্তার। তবে সময় ও প্রয়োজনের সঙ্গে চাহিদা মিলিয়ে এসেছে সংস্কার। সিলেবাসে এসেছে পরিবর্তন। কুরআন-হাদিসের পাশাপাশি এসেছে ফিকাহ, ফালসাফাসহ অন্যান্য বিষয়াদি। তবে বাংলাদেশে কওমী সিলেবাসে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। অবশ্য সিলেবাস পরিবর্তনে যে শিক্ষাব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়ত এমন আশঙ্কায়ও শঙ্কিত রেখেছে আলেমদের। ফলে আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে অন্যরা ইসলামকে ব্যবহার করেছে। পঞ্চিমা শিক্ষা বা প্রতিষ্ঠানের গায়ে ইসলামী পোশাক দিয়ে ফায়দা নিয়েছে একশ্রেণীর সুবিধালোভীরা। অথচ সময়োপযোগী সংস্কার হলে কওমি শিক্ষা সর্বোচ্চ শিখরেই পৌঁছে যেত এমনটাই মতামত দিয়েছেন অধিকাংশ কওমি পড়–য়া ছাত্র-শিক্ষক। বিশিষ্টজনদের ভাবনাও এমনই। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আলকুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. এ বি এম হিজবুল্লাহ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আমার জীবন পরিচালিত হয়েছে কওমি মাদরাসাকেন্দ্রিক। পবিত্র কুরআন-হাদিস শিক্ষার ফাউন্ডেশন অর্জন করেছি কওমি মাদরাসা থেকে। আমি মনে করি আমার উপরে ওঠার যে সিঁড়ি সেটা তৈরি করেছে কওমি মাদরাসা থেকে। সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি কওমি মাদরাসার ছেলেরা যদি একসঙ্গে সাধারণ শিক্ষার সুযোগ পেত তাহলে অন্যদের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ দিয়ে সামনে এগিয়ে যেত। এমন নজির আমাদের সামনে অসংখ্য। কওমি মাদরাসা থেকে আসা ছেলেরা বিভিন্ন পরীক্ষা দিয়ে বিগত কয়েক বছরে যেই কর্মক্ষেত্রে অবতরণ করে সাফল্যের নজির স্থাপন করেছে সবখানেই।
উল্লেখ্য, ড. এ বি এম হিজবুল্লাহ কওমি মাদরাসা থেকে হিফজ ও দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করার পর ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি অত্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যপনা করে যাচ্ছেন।
তার কথায় একটি বিষয় স্পষ্ট। কওমি পড়–য়াদের সুযোগ দিতে হবে। তাদের উপরে উঠার সিঁড়ি তৈরি করে দিতে হবে। আর সেটা করা গেলে অফুরন্ত সম্ভাবনার হাতছানি রয়েছে মাদরাসা ছাত্রদের জন্য। প্রশ্ন হলো সেই সুযোগ তৈরিতে সংশ্লিষ্ট মহল কতটা আন্তরিক? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্র জা

কওমি মাদরাসা সনদের স্বীকৃতি কোন পথে


দেশের প্রচলিত তিন ধারার শিক্ষা ব্যবস্থার একটি কওমি মাদরাসা। এক সময় এর পরিসর ছোট হলেও এখন এর গ-ি বেড়েছে। দিন দিন বাড়ছে ছাত্র সংখ্যা। অপেক্ষাকৃত কম খরচের কারণে গরিব-এতিম ছাত্র-ছাত্রীরা সুবিধা নিতে পারছে এর থেকে। তাই বড় করে সামনে আসছে এ শিক্ষার ভবিষ্যৎ। উচ্চকিত হচ্ছে স্বীকৃতির আওয়াজ। তাদের কথাÑ এখন আর এ শিক্ষাকে উপেক্ষার সুযোগ নেই। এখান থেকে প্রতিবছর হাজারো ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষা নিয়ে বের হচ্ছেন। রাষ্ট্রের কোনো রকম সহযোগিতা ছাড়াই স্বউদ্যোগে যুক্ত হচ্ছেন বিভিন্ন পেশায়। দেশে সম্মানজনক পেশায় যারা যুক্ত হতে পারছেন না তারা চলে যাচ্ছেন মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোতে। দেশের রেমিটেন্সে একটি বড় অবদান রয়েছে এই মাদরাসা শিক্ষিতদের। দেশের লাখ লাখ মসজিদ এবং মক্তব মাদরাসাই হল তাদের প্রধান কর্মক্ষেত্র। সনদের সরকারি স্বীকৃতি না থাকায় তারা তাদের মেধা-যোগ্যতাকে সর্বত্র কাজে লাগাতে পারছে না। অনেকের মধ্যে বলিষ্ঠ নৈতিকতা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও যুক্ত হতে পারছে না দেশের উন্নয়নের মূল শ্রুতধারায়। দেশ বঞ্ছিত হচ্ছে একটি বিশাল নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষিত জনশক্তির সেবা থেকে।
কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসের তথ্য অনুযায়ী দেশে ২০ হাজার কওমি মাদরাসা রয়েছে। এসব মাদরাসা থেকে প্রতিবছর শিক্ষা শেষ করে বেরুচ্ছে প্রায় ১৫ হাজার ছাত্র-ছাত্রী। এদের রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন, কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ চিন্তা করেই ওঠেছে এ শিক্ষার স্বীকৃতি। জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের বেশ কয়েকটি বোর্ড কাজ করছে কওমি শিক্ষা নিয়ে। তবে কে কবে সর্ব প্রথম স্বীকৃতির দাবি জানায় এর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। সিলেটের এদারায়ে তালিম সর্ব প্রথম স্বীকৃতির দাবি জানানোর কথা বললেও ঢাকার বেফাকুল মাদারিস দাবি করে তারাই সর্ব প্রথম এ দাবি তুলে সরকারের কাছে। তবে সব বোর্ড এখন এ কথার ওপর একমত যে কওমি মাদরাসা শিক্ষার স্বীকৃতি প্রয়োজন।
মূলত ৯০ দশকের শুরুতে স্বীকৃতির আলোচনা শুরু হলেও সবার সম্মিলিত দাবি ওঠে গত চারদলীয় ঐক্যজোট সরকার আমলে। এ দাবি প্রথমে ব্যক্তি বা মাদরাসাকেন্দ্রিক হলেও পরে তা সর্বস্তরের আলেম ও ছাত্র-শিক্ষকদের সম্পৃক্ত করে। ধীরে ধীরে আন্দোলন গতিশীল হতে থাকে। এক সময় কওমি মাদরাসার সবচেয়ে বৃহৎ বোর্ড বেফাকুল মাদারিস এ লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচি ও বিবৃতি দিতে থাকে। পাশাপাশি চলতে থাকে আলেম-ওলামা, ছাত্র-শিক্ষকদের সম্মিলিত সমাবেশ-সেমিনার। এসব সমাবেশ সেমিনার থেকে উদ্দেশ্য লক্ষ্যগুলোও তুলে ধারা হয় স্পষ্টভাবে। যে কারণে সরকারও এদিকে নজর দিতে বাধ্য হয়। গত চারদলীয় ঐক্যজোট সরকার আমলে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। তবে সেটা বেশি দূর এগোয়নি। সেই ধারাবাহিক আন্দোলনের ফলে সবশেষে ২০১২ সালের ৯ এপ্রিল মহাজোট সরকার ১৫ সদস্যের একটি কমিশন গঠন করে। অবশ্য পরে বেফাকের দাবির মুখে আরো দুজন সদস্য বৃদ্ধি করে ১৭ জনে নেয়া হয়। এই কমিশন গঠনের আগে সরকার শীর্ষ আলেমদের নিয়ে কয়েকটি বৈঠকও করে। যেখানে দেশের সব কওমি বোর্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ১৭ সদস্যের এই কমিশন নিয়ে দেশের কওমি ছাত্রসমাজ বেশ আশান্বিত হয়েছিলেন।
৯ এপ্রিল গঠিত কওমি কমিশনে সদস্যদের মধ্যে রয়েছেনÑ দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা আহমদ শফী (চেয়ারম্যান)। গোপালগঞ্জের গহরডাঙ্গা মাদরাসার প্রিন্সিপাল মুফতি রুহুল আমীন (সদস্য সচিব) ইকরা বাংলাদেশের পরিচালক মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ (কমিশনের কো-চেয়ারম্যান)।
সদস্য হিসেবে রয়েছেনÑ চট্টগ্রামের জামিয়া দারুল মাআরিফের মহাপরিচালক মাওলানা সুলতান যওক নদভী, চট্টগ্রামের পটিয়া মাদরাসার মহাপরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম বোখারি। কুমিল্লার জামিয়া কাসেমুল উলুম মাদরাসার শায়খুল হাদিস মাওলানা আশরাফ আলী, কিশোরগঞ্জের জামিয়া ইমদাদিয়ার মুহতামিম মাওলানা আনোয়ার শাহ, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার দীর্ঘদিনের মহাসচিব মাওলানা আবদুল জব্বার, সিলেটের হোসাইনিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবদুল বাসেত বরকতপুরী, ঢাকার মিরপুরের মারকাযুদ দাওয়াহ আল-ইসলামিয়ার শিক্ষাসচিব মাওলানা মুফতি আবদুল মালেক, ঢাকার ফরিদাবাদ মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মোহাম্মদপুর ঢাকার প্রিন্সিপাল মুফতি মাহফুজুল হক, বসুন্ধরার ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের শিক্ষাসচিব মুফতি এনামুল হক, হবিগঞ্জের মাদরাসা নূরে মদিনার প্রিন্সিপাল মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলীপুরী, জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া আলী অ্যান্ড নূর রিয়েল এস্টেটের প্রিন্সিপাল মাওলানা হিফজুর রহমান। বগুড়ার জামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবদুল হক হক্কানি এবং খুলনার জামিয়া দারুল উলুম মাদরাসার হাফেজ মাওলানা মোশতাক আহমাদ।
কমিশন গঠনের পর বিষয়টি সর্বমহলে বেশ আলোচনায় আসে। কয়েকটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয় সদস্যদের। এর অফিস হিসাবে ব্যবহার করা হয় আশকোনা হজক্যাম্পের দ্বিতীয় তলার একটি রুম।







শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০১৫




          প্রিয় মানুষটির তাফসিরের বয়ান।১

শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০১৫


প্রযুক্তির অপব্যবহার

এই যুগ প্রযুক্তির-নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। যদি প্রশ্ন করা হয় প্রযুক্তি ছাড়া আমাদের কি একদিনও চলবে খুব জোড়ালো কন্ঠেই উত্তর আসবে না। যেই প্রযুক্তি আমাদের জীবন যাত্রাকে এতটা সহজ করেছে সেই প্রযু্ক্তিগুলোর কিছু কিছু অংশ  আজ আমাদের জন্য কাল হয়ে দাড়িয়েছে। প্রযুক্তির সুফল যেখানে আমাদেরকে বিশ্বদরবারে একটি উন্নত জাতি হিসেবে দাড় করাবে কিন্তু ঘটতে যাচ্ছে তার বিপরীত। আর তার জন্য দায়ী আমরা নিজেরাই। কথায় আছে কপালের সিদুর যদি পায়ে মোছে  তাহলে কার কি আসে যায়। সত্যিই কথাটার যর্থাথতা রয়েছে, যার প্রমান মিলবে অল্পক্ষনেই।

সেলফোন : একে অপরের সাথে যোগাযোগ রক্ষায় সেলফোনের ভুমিকা অপরিসীম। তারওয়ালা ল্যান্ড ফোনগুলোর নানা ঝামেলা এড়াতে আমাদের দেশে প্রচলন হয় তার বিহীন সেলফোনের। প্রথমদিককার সেলফোনগুলোর মাধ্যমে শুধু কথা বলা ও ম্যাসেজ লিখা যেতো। ছিলো না কোনো ক্যামেরার ব্যবস্থা। কিছু দিন যেতে না যেতেই প্রযুক্তিবিদদের অক্লান্ত প্ররিশ্রমে এতে যোগ হলো ক্যামেরা , এমপিথ্রি প্লেয়ার ও এমপি ফোর প্লেয়ার। কিন্তু প্রযুক্তির আর্শীবাদ এই সেলফোনগুলো কতিপয় ব্যবহারকারীর কারনে প্রযুক্তির এক কালো অধ্যায় রচনা করছে। সেলফোন অপারেটরদের নানা সুবিধা ভোগ করতে আজ আমরা রাত ভোর করে দিচ্ছি কথা বলতে বলতে। যার প্রভাব পড়ছে আমাদের কর্মস্থলে। পাশাপাশি শারিরিক ও মানসিকতো রয়েছেই। স্কুল পড়–য়া ছাত্র-ছাত্রীরাও আজ সেলফোন নেশায় মেতে উঠেছে। তারা বিদ্যালয়ে সেলফোন নিয়ে যাচ্ছে। আর  তাতে লোড থাকছে নানা পর্ণোগ্রাফি যা নিজে দেখছে এমনকি বন্ধুদের নিয়ে ও শেয়ার করছে। যদি বারন করা হয় তাহলে শোনাচ্ছে নানান যুক্তি।

সেলফোন রেডিয়েশনঃ যুক্তরাষ্ট্রের এক গবেষনায় প্রমানিত সেলফোন থেকে যে ধরনের রেডিয়েশন নির্গত হয় তাতে নার্ভ ক্ষতিগ্রস্থ , চোখে ক্যাটরেখ, রক্তের উপাদানগত পরিবর্তন, দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া ইত্যাদি ঘটে থাকে। জাপানে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে মুত্যু ঘটেছে এমন লোকের সংখ্যাও সম্প্রতি কম নয়। সম্প্রতি আমাদের দেশের সেলফোন ব্যবহারকারীরাও হাসপাতালের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলছেন। এটি প্রযুক্তির কুফল ছাড়া আর কিছুই নয়।

বিল্ট ইন ক্যামেরা : এবার আসা যাক সেলফোন বিল্ট ইন ক্যামেরার কথায়। সেলফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে নানান রেজ্যুলেশনের ক্যামেরা সংবলিত সেলফোন বাজারে ছাড়ছে। ব্যবহারকারী তার পছন্দনুযায়ী সেলফোনটি ক্যামেরা হিসেবে ব্যববহারের জন্যই উচুঁদরে কিনে নিয়ে যাচ্ছে। হয়তবা সেই ব্যবহারকারী ক্যমেরাটির যর্থার্থ ব্যবহার করছেন। কিন্তু আরেক ব্যবহারকারী ঘটাচ্ছে তার উল্টোটি। আর এসব ঘটনাগুলো যারা ঘটাচ্ছেন তাদের অধিকাংশই উঠতি যুবক বা যুবতী। যাদের পাড়ার মোড়গুলোতে স্কুল কলেজ ছুটি হবার সময় চুটিয়ে আড্ডা মারতে দেখা যায়। দেখা গেলো(হরহামেশাই ঘটছে) কোনো স্কুল বা কলেজ পড়–য়া ছাত্রী তার সামনে দিয়ে হেটেঁ যাচ্ছে ঠিক তখনি সেই সেলফোনওয়ালা তার একটি ছবি তুলে বসলেন। এতে সেই ছাত্রীটি একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে। আবার এর বাধাঁ দিতে গেলেও হয়তো মান ইজ্জত খুইয়ে বসছেন। এমনও হতে পারে সেই যুবকটি সদ্য তোলা এই ছবিটি ইন্টারনেটে নানান বিকৃতি করে ছেড়ে দিচ্ছে এবং সবাইকে জানান দিচ্ছে। কারন দুস্কর্মের জন্য কম্পিউটার জানা পন্ডিতের অভাব হয় না। এভাবে অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুখীন হতে হতে  একদিন পত্রিকার পাতায় বড় অক্ষরেই ছাপা হচ্ছে বখাটের উৎপাতে কোনো ফাতেমা বা জুলেখার আত্তাহুতি।

ল্যাপটপ বিল্ট ইন ক্যামেরা : এখনকার ল্যাপটপ কম্পিউটারগুলোতে বিল্ট ইন ক্যামেরা রয়েছে। যা প্রযুক্তির এক নতুন রপরেখা। এই ক্যামেরাগুলো ল্যাপটপ বন্ধ থাকা অবস্থায়ও ছবি তুলতে বা ভিডিও করতে সক্ষম। ফলে খারাপ লোকের মনবাসনা পুরনে এটি এক সহায়ক ভুমিকা পালন করে।

পেনড্রাইভ : প্রথমে কম্পিউটারের সাথে রিমোভেবল ডিস্ক হিসেবে প্রচলন ছিলো ফ্লপি ডিস্কের। ডেটা লস হবার কারনে এই ডিভাইসটি ততটা বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারে নি। ফলে কম্পিউটার প্রযুক্তিবিদদের ঘুম হারাম হয়ে যায়। লক্ষ্য একটাই কিভাবে ডেটা অক্ষুন্ন অবস্থায় এক কম্পিউটার থেকে আরেক কম্পিউটারে আদান প্রদান করা যায়। অবশেষে এর সমাধান হিসেবে আবিস্কার হলো পেন ড্রাইভের । আজকাল বাজারে (১২৮, ৫১২ মেগাবাইট, ১,২,৪,৬,৮ গিগাবাইট) পর্যন্তও পেন ড্রাইভ পাওয়া যায়। তাই আজ আমরা খুবই বিশস্ততার সহিত ডেটা আদান প্রদান করছি। কিন্তু এর কিছুটা কুফলও রয়েছে। উদাহরন হিসেবে বলতে হয়, পেনড্রাইভ রয়েছে এমনি একজন তার যে কোনো বন্ধুর কম্পিউটার থেকে নিষিদ্ধ র্ভিডিও চিত্র বা স্থির চিত্র খুব সহজেই পেনড্রাইভে করে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি সাইবার ক্যাফেতে বসেও নিষিদ্ধ ওয়েবসাইটগুলো ঘেটেঁ তার বিভিন্ন কনটেন্ট পেন ড্রাইভে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে

জ্ঞানের সাধনায় গ্রন্থাগারের গুরুত্ব


বিশ্ববরেণ্য গবেষক ও ইসলামী ব্যক্তিত্ব আল্লামা ইউসুফ কারজাভির চিন্তা-চেতনা এবং ফিকহ ও অন্যান্য বিষয়ে তার গবেষণা সম্পর্কে আলোকপাত ও মূল্যায়নের লক্ষ্যে চতুর্থ বারের মতো এবারও কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক কনফারেন্স ও সেমিনার। পাঁচ দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠান গত ২ মার্চ রোববার শেষ হয়েছে। এতে পৃথিবীর প্রায় ৫০টি দেশ থেকে আমন্ত্রিত গবেষকরা অংশ নেন এবং আল্লামা কারজাভির গবেষণা ও কর্মের ওপর তাদের অভিমত ব্যক্ত করেন। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল, ‘আল্লামা কারজাভি এবং ফিকহুদ দাওয়াহ।’ বাংলাদেশ থেকে আমন্ত্রিত হয়ে এ সম্মেলনে অংশ নেন চট্টগ্রামের দারুল মারিফের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এবং আন্তর্জাতিক ইসলামী সাহিত্য সংস্থার আঞ্চলিক প্রধান আল্লামা সুলতান জওক নদভী এবং ড. জসিমুদ্দীন নদভী। পাক-ভারত উপমহাদেশে আল্লামা কারজাভির প্রভাব ও মূল্যায়ন বিষয়ে সম্মেলনে প্রবন্ধ পাঠ করেন ড. জসিমুদ্দীন নদভী। এর আগে শনিবার অতিথিদের সম্মানে নিজের বাসভবনে কাতারের ঐতিহ্যবাহী নৈশভোজ আয়োজন করেন আয়োজক ইউসুফ কারজাভি। কাতারের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা এতে উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক ইস্যুতে রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়ায় আল্লামা কারজাভি পুরো আরববিশ্বে আলোচিত ব্যক্তিত্ব। ৮৮ বছর বয়সী প্রবীণ এ ব্যক্তিত্ব ইসলামের প্রায় সব বিষয়ে লেখালেখি করেছেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা ১৫০।
সম্মেলনে বক্তারা ইউসুফ কারজাভিকে এ যুগের ইমাম এবং উম্মতের রাহবার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি যে মধ্যম পন্থা অবলম্বনের জন্য মুসলমানদের বারবার আহ্বান জানিয়ে আসছেন, সেটাই মূলত ইসলামের প্রধান বৈশিষ্ট্য। শুধু আরববিশ্বে নয়, ইউরোপ-আমেরিকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মুসলমানরা তার লেখনীর মাধ্যমে বিশেষভাবে উপকৃত হচ্ছেন। অনুষ্ঠানে আগত ছাত্র এবং অতিথিদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন আল্লামা কারজাভি। সেমিনারের বাইরে অতিথিরা কাতারের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করেছেন।
জ্ঞানই শক্তি, জ্ঞানই আলো, জ্ঞানই আনে মুক্তি। মানুষের দুই ধরনের ক্ষুধার সৃষ্টি হয়। একটি হলো দৈহিক ক্ষুধা, অন্যটি হলো মানসিক ক্ষুধা। দৈহিক ক্ষুধার চাহিদা যেমন সাময়িক, তেমনি এটা সহজলভ্য। আর মানসিক ক্ষুধার চাহিদা যেমন, তেমনি এটা পূরণ করাও কঠিন। ইসলাম এমনি একটি মানবহিতৈষী ধর্ম, যা এই জ্ঞানরাজ্যের ক্ষুধা নিবারণে অত্যধিক গুরুত্ব দিয়েছে এবং নানাভাবে এর প্রতি উত্সাহিত করেছে। মুসলমানদের সবচেয়ে প্রিয় গ্রন্থ আল কোরআন শুরুই হয়েছে ‘পড়ো’ নির্দেশ দিয়ে। পবিত্র কোরআনে বারবার এরশাদ হয়েছে, যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কখনও সমান নয়।
এই জ্ঞানরাজ্যের ক্ষুধা মেটানোর প্রধানতম অবলম্বন হলো পাঠাগার তৈরি করা। ইতিহাসে যেটাকে মধ্যযুগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, সেখানে দেখা যায়, মুসলমানরা বিশ্বময় আলো ছড়ানোর জন্য যেভাবে পাঠাগার, গ্রন্থাগার গড়ে তুলেছিলেন, পৃথিবীর আর কোনো জাতি-গোষ্ঠী তখন তাদের ধারে-কাছেও ছিল না। তারা ছিল অন্ধকার জগতে নিমজ্জিত। বিশেষ করে ইউরোপ তখন তাকিয়ে ছিল মুসলিম সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দু কর্ডোভা, গ্রানাডা, বাগদাদ আর মিসরের দিকে। সেখানে তারা বছরের পর বছর পড়ে থেকে জ্ঞানরাজ্যের সন্ধান করেছে। মধ্যযুগের ইতিহাস মুসলমানদের সমৃদ্ধির ইতিহাস, কর্ডোভার ইতিহাস মুসলমান শিক্ষাদীক্ষায় শ্রেষ্ঠত্বের ইতিহাস। পৃথিবীর সব জ্ঞানভাবায়তুল হিকমাহ নামে বিশাল এক গ্রন্থশালা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এছাড়া কর্ডোভা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে গ্রন্থাগারটি প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, তত্কালীন সেই পাঠাগারে সংরক্ষিত ছিল ছয় লাখ পা ুলিপি। আর এ বইগুলোর নামের তালিকা করতে লেগেছিল ৪৪টি বিশাল গ্রন্থের। পৃথিবীর ইতিহাসে তত্কালীন কর্ডোভা রাজ্যটি বইয়ের নগরীতে পরিণত হয়েছিল। পরবর্তীকালে শাসকদের ভোগবিলাসী জীবন, প্রজাদের আরাম-আয়েশের জীবন মুসলমানদের দ্রুত ধ্বংসের পথ রচনা করে।
আজকের দিনে আমাদের ব্যক্তি এবং পরিবারকে বিকশিত করতে হলে, আলোকময় করতে হলে, পাঠাগার তৈরির কোনো বিকল্প নেই। অবশ্য সেই পাঠাগারে ভালো মানের বই রাখতে হবে। বর্তমান সময়ে কাগজ ও ছাপার কাজ সহজ হওয়ায় ভালো মানের বইয়ের চেয়ে আবর্জনাই বেশি ছাপা হচ্ছে। কোনো পরিবারে যদি পাঠাগার থাকে, তাহলে সেই পরিবারের মানুষের চালচলনে এর একটি প্রভাব লক্ষ করা যায়। আমরা আমাদের গৃহসজ্জার কাজে কত কিছুই তো কিনি; কিন্তু কতজন আছি, আমার আগামী প্রজন্মকে আলোকিত করার জন্য বই কিনে গৃহ সজ্জিত করি? সন্তানের মানসিক বিকাশের জন্য চাই বই। ভালো মানের বই। সন্তানের অবসর সময় কাটানোর জন্য বই হতে পারে তার ভালো বন্ধু। হাতের কাছে বই থাকলে ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছাই হোক সে বই পড়বেই। জানার ক্ষুধা সবারই আছে। ছোটদের মধ্যে নতুনকে জানার ইচ্ছা আরও প্রবল।

মুসলিম সমাজে আজ পড়ার প্রচলন কমে যাওয়ায় অফুরন্ত অবসর সময় থাকায় তারা নানা অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে, নানা অপরাধমূলক কর্মকা ের সঙ্গে জড়িত হওয়ার চিন্তা করার সময় পাচ্ছে। কিন্তু প্রতিটি পরিবারে যদি ছোটখাটো পাঠাগার গড়ে তোলা যেত, তাহলে তাদের এ বিপদের কবল থেকে রক্ষা করা যেত। আজ তরুণ প্রজন্ম নেশাগ্রস্ত। শিক্ষার আলো থেকে তারা বঞ্চিত। ঘরে-বাইরে কোথাও তারা মনের খোরাক পায় না। মনকে বিকশিত করার, মনকে প্রফুল্ল রাখার সন্ধান তারা পায় না। তারা অস্ত্রের ঝনঝনানি দেখে, তারা সম্পদ নিয়ে কাড়াকাড়ি দেখে, অন্যের মুখের গ্রাস কীভাবে কেড়ে নিতে হয়, সেটা দেখে। ফলে তাদের মধ্যেও এ মনোবৃত্তি গড়ে ওঠে। আমাদের সমাজকে বিকশিত করতে হলে পাঠাগার বিপ্লব করতে হবে। প্রতিটি পরিবারে একটি করে ছোট পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে। বিশেষভাবে নৈতিকভাবে তারা বিকশিত হয়, এমন কিছু বই অবশ্যই পাঠাগারের জন্য সংগ্রহ করতে হবে।
মানুষের জীবনে বই সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু। বই মানুষের বিকারগ্রস্ততা দূর করে। বই অবসরের বিনোদন। বই আত্মার খোরাক জোগায়। বই হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে একটি শান্তিময় পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় উত্সাহিত করে। মানবজীবনে বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। আলো ছাড়া যেমন পথ চলা যায় না, তেমনি বই ছাড়া সত্যিকার কোনো মানুষ হতে পারে না। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমাদের গৃহে আজ বইয়ের স্তূপ নেই, বইয়ের কোনো শোকেস নেই, হাঁড়ি-পাতিল আর মূর্তি দিয়ে শোকেস ভরে রাখলেও অতি প্রয়োজনীয় জিনিসটি রাখার জায়গা আমরা বন্ধ করে দিয়েছি। আসুন, আবার বইয়ের কাছে ফিরে যাই, বইয়ের কাছেই আমাদের ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজের সব অশান্তি, অরাজকতা, বিশৃঙ্খলা দূরীকরণের চাবিকাঠি। এছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। ভারতের পাটনায় অবস্থিত খোদা বখশ ওরিয়েন্টাল লাইব্রেরি। ১৮৯১ সালে খান বাহাদুর খোদা বখশ এটি প্রতিষ্ঠা করেন। লাইব্রেরিটি দুর্লভ ফারসি ও আরবি পা ুলিপির জন্য বিখ্যাত। এখানে রাজপুত ও মোগল আমলে আঁকা নানা রকমের চিত্র সংরক্ষিত রয়েছে।
শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি সভ্য ও উন্নত হতে পারে না। ভোগ করতে পারে না তাদের স্বাধীনতার সুফল। স্বাধীনতা অর্জনের ৪০ বছর পর এসে বাংলাদেশে শিক্ষিতের হার বেড়েছে উত্সাহব্যঞ্জকভাবে। মানুষের জীবনযাত্রার মানও হতাশাব্যঞ্জক নয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উত্কর্ষের এ যুগে আমরাও এগিয়ে যাচ্ছি নানা ঘাত-অভিঘাত সত্ত্বেও। দেশের আনাচে-কানাচে পর্যন্ত পৌঁছে গেছে শিক্ষার আলো। প্রত্যন্ত অঞ্চলও খালি নেই প্রাথমিক শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বা প্রাইমারি স্কুল থেকে। প্রতিটি শহরে গড়ে উঠেছে কলেজ-মহাবিদ্যালয়। দ্রুত বেড়ে চলেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও। সরকারের প্রশংসনীয় উদ্যোগ ও শিক্ষিত শ্রেণীর আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে ধনী-গরিব ছেলেমেয়ে নির্বিশেষে সবাই যাচ্ছে পাঠশালায়। এমনকি শিক্ষার সৌভাগ্যবঞ্চিত গত প্রজন্মের প্রবীণরাও বিদ্যালয়ে যাচ্ছেন পরবর্তী প্রজন্মের হাত ধরে।
তবে এসব সত্ত্বেও যে সত্যটি অস্বীকার করার মতো নয় তা হলো, আদর্শ চরিত্রবান দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরি করতে না পারলে আমাদের স্বাধীনতা অর্থবহ ও ফলপ্রসূ হবে না। সম্ভব হবে না দেশের প্রতিটি নাগরিকের মুখে হাসি ফোটানো। আগে মনে করা হতো, সামাজিক অপরাধের সঙ্গে শুধু অশিক্ষিত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীই জড়িত; কিন্তু বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে র্যাব কর্তৃক পরিচালিত মাদক ও নৈতিকতাবিরোধী অভিযান সে ধারণার মূলে কুঠারাঘাত করেছে। দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা যেসব অসামাজিক ও নৈতিকতাহীন কর্মকা ে জড়িয়ে পড়েছে, তা দেখে দেশবাসী যুগপত্ বিস্মিত ও হতাশ হয়েছে। তখন একযোগে মিডিয়াগুলোতে লেখালেখি হয়েছে, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষার অনুপস্থিতি এবং ধর্মীয় চেতনা হ্রাস পাওয়ার কারণেই এ চারিত্রিক ধস। আজ দেশের এ ক্লান্তিকালে সবাই অনুধাবন করছেন যে, শিক্ষিত ও চরিত্রবান নাগরিক তৈরির কোনো বিকল্প নেই। মানুষকে সুশিক্ষিত ও চরিত্রবান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য দরকার তাদের মাঝে শিক্ষার আলো এবং পরকালে জবাবদিহিতার ভয় জাগিয়ে দেয়া। এজন্য ইসলাম শুরুতেই মানুষকে শিক্ষিত ও আলোকিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আসমানি প্রত্যাদেশের প্রথম শব্দই ছিল ‘পড়ো’। আর ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সা.)-ও দ্ব্যর্থহীনভাবে শিক্ষার গুরুত্ব ঘোষণা করেছেন।
বদর যুদ্ধে শত্রুপক্ষের যারা আটক হয়েছিল, তাদের মধ্যে পণমূল্য না থাকায় যারা মুক্তি পাচ্ছিল না তাদের জন্য তিনি নিরক্ষরকে শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে মুক্তিলাভের সুযোগ দেন। এ থেকে তার শিক্ষার প্রতি অনুরাগ অনুমিত হয়। দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে এবং নাগরিকের দুনিয়া ও আখেরাতের এ লক্ষ্য অর্জনের নিমিত্তেও চাই সবার কাছে জ্ঞানের আলো পৌঁছে দেয়া। কিন্তু স্যাটেলাইট চ্যানেলের আধিপত্যের যুগে মানুষ যেখানে ঘরে বসে চটুল বিনোদনের আস্বাদ পাচ্ছে সারাক্ষণ, সেখানে তাদের বই কিনে পড়ার মতো কসরত করার ধৈর্য না থাকাই স্বাভাবিক। এজন্য দরকার জ্ঞানের সুবাস তাদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়া। এ বিবেচনা থেকেই ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার ধারণার জন্ম। যেভাবে টিভি চ্যানেলের সংখ্যা বাড়ছে, সেভাবে বাড়ছে না মানুষকে জ্ঞানের নেশার সন্ধান দেয়ার জন্য এসব মোবাইল লাইব্রেরির সংখ্যা।
চতুর্থ শতাব্দীতে সর্বপ্রথম মুসলিম প িত ও প্রশাসক সায়েব বিন আব্বাদ আরবজাহানে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি প্রবর্তন করেন। ১৯১২ সালে আমেরিকা অঞ্চলে ঘোড়ার গাড়ির মাধ্যমে পাঠাগার যাতায়াত করত বিভিন্ন লোকালয়ে। আর ফ্রান্সে এটা শুরু হয় ১৯২০ সালে। বর্তমান পৃথিবীতে গাড়িতে করে বহনযোগ্য গ্রন্থাগার প্রায় সব দেশেই চালু আছে। ভেনিজুয়েলার মমবয় বিশ্ববিদ্যালয় দুটি খচ্চরকে ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার হিসেবে ব্যবহার করে গ্রামীণ মানুষকে বই সরবরাহ করে থাকে। গ্রামের লোকেরা এটাকে ‘বিবিলোমলাস’ (বইয়ের খচ্চর) বলে অভিহিত করে। বাংলাদেশে প্রথম ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির উদ্যোগ নেয় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, এর আলোকিত মানুষখ্যাত অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ আলোকিত মানুষ গড়ার লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি নিয়ে তাদের দরজায় কড়া নাড়েন।
পাঠকদের অনেকে হয়তো বলবেন, এ পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করবে কে? এটা কার দায়িত্ব, সরকার না জনগণের? আসলে সে প্রশ্ন না করে আমরাই এ কাজ শুরু করতে পারি। দরকার শুধু কয়েকজন উদ্যমী ও কর্মনিষ্ঠ মানুষের। আমরা যারা ইসলাম নিয়ে ভাবি, মানুষের কল্যাণ ও দেশের সমৃদ্ধি চিন্তায় জীবনের নানা ঝামেলা ও কর্মব্যস্ততার মধ্যে খানিক সময় বের করি তাদের উচিত যুগ চাহিদার প্রেক্ষাপটে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসা। মন্দ যেখানে হাত বাড়ালেই পাওয়া যায়, ভালোটাকেও সেভাবে সবার হাতের নাগালে পৌঁছে দিতে হবে।
আধুনিককালে তুরস্কের ‘সোলাইমানিয়া’ লাইব্রেরিটির অবস্থান শীর্ষে, ঐতিহ্য, বিশালতা ও সংগ্রহের বৈচিত্র্যে এটি অনন্য। তারপরে মিসরের ‘দারুল কুতুব’ যা প্রাচীন ঐতিহ্য ও ইসলামী জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চায় ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। ইরাকে আবদুল্লাহ মারাশি নাজাফি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বিখ্যাত লাইব্রেরিটি ইসলামী দুনিয়ায় তৃতীয় বৃহত্তম বলে দাবিদার। এ লাইব্রেরিতে পঞ্চম ও ষষ্ঠ শতাব্দীর ইসলামী সংস্কৃতির দুর্লভ সংগ্রহ রয়েছে। হাতে লেখা প্রাচীন কোরআন শরিফখানাও এ পাঠাগারের হেফাজতে। প্রাচীন হস্তলিপি সংগ্রহের দিক দিয়ে এ পাঠাগারটি শ্রেষ্ঠতম, এক লাখেরও বেশি প্রাচীন হস্তলিপি এখানে জমা আছে। বিজ্ঞানী ইবনে রুশদের ভূগোলসম্পর্কীয় কিতাব ‘আল কানুন’, খাজা নাছির উদ্দিন তুসির চিকিত্সাবিজ্ঞান শাস্ত্র ‘তাহরিরে একলিদেস’ ও শরিফ ইদ্রিসের ‘নাজহাতুল মুস্তাক’ নামের বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মূল পা ুলিপি এখনও বিদ্যমান আছে। গ্রন্থসংগ্রহ ও জ্ঞানচর্চার সুবিধার্থে পবিত্র নগরী মদিনায় স্থাপন করা হয়েছে ‘মাকতাব আল আবদুল আজিজ’। এটি মসজিদে নববির বারান্দার পশ্চিম অংশে অবস্থিত। ইসলামী সভ্যতা ও জ্ঞানচর্চার স্বর্ণালি যুগের মিউজিয়ামও বটে। এ পাঠাগারের সংগ্রহ ইসলামী জ্ঞানভা ারের এক বিশাল অমূল্য সম্পদ। সারা দুনিয়ার দুর্লভ ইসলামী প্রকাশনার পা ুলিপিসহ অসংখ্য বৈচিত্রে ভরা পবিত্র কোরআন, হাদিস ও ধর্মীয় কিতাবের বিশাল সংগ্রহ সংরক্ষিত আছে। শুধু কোরআনে কারিমের পা ুলিপি রয়েছে প্রায় এক হাজার ৮৭৮টি। এর সঙ্গে রয়েছে ৮৪টি হস্তলিখিত কোরআনের বিশেষ অংশ। দুর্লভ অমূল্য কিতাবই আছে প্রায় ২৫ হাজার। ৪৮৮ হিজরিতে আলী বিন মুহাম্মদ আল বাতলিওসি কর্তৃক হরিণের চামড়ার ওপরে লিখিত পবিত্র কোরআনসহ ১৫৮ কেজি ওজনের বৃহদাকার হস্তলিখিত পবিত্র কোরআনের কপিটি এ লাইব্রেরির অহঙ্কার, যা গোলাম মুহিউদ্দিন কর্তৃক লিখিত। ‘মাকতাবাত আবদুল আজিজ’ পাঠাগারটি তথ্যগ্রন্থ, পা ুলিপি, অভিসন্দর্ভ, গবেষণাপত্র ও অত্যাধুনিক সুবিধাদির জন্য বিশ্ববিখ্যাত। ১৯৭৫ সালে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ চত্বরে ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠিত হয়। ধর্মীয়, ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চা, মুসলিম ঐতিহ্য, মুসলিম মনীষীদের জীবনীমূলক বই প্রণয়ন ও প্রকাশ করে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার মতো মহত্ কাজ করছে এ প্রতিষ্ঠানটি। বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থসহ অন্যান্য বইয়ের সংখ্যা এক লাখ ১০ হাজারেরও বেশি। হজরত ওসমান (রা.)-এর হাতে লেখা ও পবিত্র কোরআনের ছায়ালিপি, ৬১ কেজি ওজনের ১১০০ পৃষ্ঠা পৃথিবীর অন্যতম সর্ববৃহত্ হাতে লেখা কোরআন ও ২.৩৮ গ্রাম ওজনের ক্ষুদ্র এক কপি মুদ্রিত কোরআনের সংগ্রহ ইসলামিক ফাউন্ডেশন লাইব্রেরিকে সমৃদ্ধ করেছে।

বই পড়ার মধ্য দিয়ে মানুষ তার চিন্তার জগত্ প্রসারিত করে। বিবিধ সত্ গুণাবলি আয়ত্ত করার কৌশল শিখে নেয়। একজন সত্ মানুষ আরও সত্ হয়, তার সচেতনতা বাড়ে, দায়িত্বশীল ও জ্ঞানী মানুষ হিসেবে সে গড়ে ওঠে। বই এবং পাঠের অবদানে এভাবে ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের জন্য অপরিসীম কল্যাণ বয়ে আনে। মানুষের পাঠাভ্যাস এবং তার প্রসারণ মূলত মানুষের বিশেষ ইচ্ছাশক্তি এবং সুবিধাবোধের আকাঙ্ক্ষার মাপকাঠিতে বিচার্য। তবে পাঠাভ্যাস বৃদ্ধি তথা পাঠস্পৃহা জিইয়ে রাখা খুবই কষ্টকর। এজন্য গ্রন্থবিজ্ঞানীরা একমত হয়েছেন, গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই পাঠাভ্যাস সৃষ্টি ও পাঠাভ্যাস বৃদ্ধি করা যেতে পারে। প্রাচীন ও মধ্যযুগের গ্রন্থাগারকে মনে করা হতো শুধু জ্ঞানের ভাধ্যান-ধারণা পাল্টে ‘গ্রন্থাগার’কে (পাঠাগার) বিজ্ঞানের মর্যাদায় ভূষিত করা হয়েছে। স্বাধীনতার পর এ দেশে সর্বপ্রথম প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রন্থাগার বিজ্ঞান নামে একটি বিভাগ খোলা হয়েছে।
মানুষের হাজার হাজার বছরের লিখিত-অলিখিত সব ইতিহাস ঘুমিয়ে আছে একেকটি গ্রন্থাগারের ছোট ছোট তাকে। গ্রন্থাগার মূলত মৃতের সঙ্গে জীবিতদের যোগাযোগের প্রথম বাহন। শিলালিপি থেকে শুরু করে প্রাচীন ও আধুনিক লিপির গ্রন্থিক স্থান এ গ্রন্থাগার। একটি পাঠাগার মানবজীবনকে পাল্টে দেয়। পৃথিবীর মহান মনীষীরা শৈশব-কৈশোরেই কোনো না কোনোভাবে গ্রন্থাগারের সংস্পর্শে এসেছেন। সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি, ইতিহাস, রাজনীতি, বিজ্ঞান, ধর্মীয় নীতিজ্ঞান, চিকিত্সাবিদ্যা ও প্রযুক্তি—সব ধরনের জ্ঞানের উত্স হতে পারে নগর বা মফস্বলের সাধারণ মানের একটি পাঠাগার। বই কিংবা পাঠাগার আত্মার খোরাক জোগায়। সাহিত্যিক প্রতিভা বসু যথার্থই বলেছেন ‘শ্রেষ্ঠ আত্মীয় যার সঙ্গে কখনও ঝগড়া হয় না।’
বাংলাদেশে পাঠাগার : জ্ঞান অর্জনের জন্য মানুষের উত্তম পদ্ধতি হলো পড়াশোনা করা। জ্ঞানের চর্চা ও বিকাশের ক্ষেত্রে পাঠাগারের ভূমিকা অনেক বেশি বলেই যুগে যুগে পাঠাগার গড়ে উঠেছে। গ্রন্থাগার (খরনত্ধত্ু) বা প্রকৃত অর্থে পাঠাগার হলো বই, পুস্তিকা, ধর্মগ্রন্থসহ অন্যান্য পঠন ও তথ্যসামগ্রীর সংগ্রহশালা, যেখানে পাঠকের প্রবেশাধিকার থাকে এবং পাঠক সেখানে পাঠ, গবেষণা কিংবা তথ্যানুসন্ধান করতে পারেন। সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত গ্রন্থাগারকে ‘গণগ্রন্থাগার’ (চঁনষরপ খরনত্ধত্ু) বলে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজস্ব লাইব্রেরি গড়া হয় ছাত্র-শিক্ষকদের অধ্যয়ন ও গবেষণার লক্ষ্যে। রাষ্ট্রীয় পাঠাগার হিসেবে বাংলাদেশে কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি ছাড়াও রয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক গ্রন্থাগার ব্যান্সডক লাইব্রেরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে লাইব্রেরি বিদ্যমান আছে, যা আধুনিক ও সমৃদ্ধ। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায়ও পাঠাগার রয়েছে। প্রান্তিক এলাকায় ব্যক্তি উদ্যোগে অনেক ছোট-বড় পাঠাগার চালু আছে। বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের নিজস্ব পাঠাগার আছে, যাতে তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অধ্যয়নের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত হতে পারে।
পৃথিবীতে লাখো কোটি পাঠাগার বা লাইব্রেরি জ্ঞানের সব শাখা-প্রশাখা ছড়াতে প্রস্তুত থাকলেও এর গ্রহীতা হিসেবে পাঠকদের অংশগ্রহণের হারে অঞ্চলভেদে তারতম্য রয়েছে। বাংলাদেশে পাঠাগারে বই পড়ার মতো একনিষ্ঠ পাঠকের সংখ্যা নেহায়েত কম। আর বইপ্রেমী নারী পাঠকের বড়ই আকাল। অধিকাংশ বাড়ির শোকেস শৌখিন সামগ্রীতে ভরা থাকে, বই বাদে। অথচ সবারই জানা কথা, বই ভর্তি শোকেসের মতো দৃষ্টিনন্দন আর কিছুই হয় না। দুর্মুখেরা বলে থাকে, নারীরা পঠন বইয়ের চেয়ে নাকি চেক বই হাতে নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে!
পাঠাগার মুসলিম ঐতিহ্যের অংশ : মূলত ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার কারণেই মুসলমানরা জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্র হিসেবে পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করে আসছে। পবিত্র কোরআন মজিদে অন্তত ৯২ জায়গায় জ্ঞানচর্চা-গবেষণার প্রসঙ্গ এসেছে। ‘আল কোরআন’ শব্দটির একটি অর্থ ‘অধ্যয়ন’। আল কোরআনের প্রথম অবতীর্ণ আয়াত ‘ইক্রা বিইস্মি রাব্বিকাল্লাজি খালাক,’ অর্থাত্— পড়ো! তোমার প্রভুর নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। মহানবী (সা.)-এর বিখ্যাত সহি হাদিস ‘জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর ওপর ফরজ।’ সৃষ্টিতত্ত্ব বুঝতে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিনকে চিনতে হলে, জ্ঞানচর্চার জন্য অধিক পারিমাণে পাঠাভ্যাস করতে হবে। পাঠাগারে নিজেকে লীন করে প্রকৃত সত্যকে উপলব্ধি করার প্রচেষ্টা থাকতে হবে। বুদ্ধি ও প্রজ্ঞার শিক্ষা গ্রহণ করে আত্মশুদ্ধি লাভ করতে হবে।
মধ্যযুগে যখন গোটা ইউরোপ অজ্ঞানতার অন্ধকারে ডুবেছিল তখন মধ্যপ্রাচ্য, স্পেন, উত্তর আফ্রিকা, গ্রানাডা ও কর্ডোভাসহ মুসলিম দুনিয়ার প্রায় সর্বত্র পাঠাগার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জ্ঞানচর্চার বিকাশ ঘটে। মুসলমানদের মধ্যে পাঠাগারের আদি প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে যিনি সবার কাছে সমাদৃত, তিনি হলেন প্রিন্স খালিদ। তিনি গ্রিক বিজ্ঞান, রসায়ন আর চিকিত্সা বিজ্ঞান অধ্যয়নের ব্যাপারে উত্সাহী হয়ে গ্রিক ভাষার বই-কিতাবগুলো অনুবাদ করে নিজ গ্রন্থাগারের সমৃদ্ধি ঘটিয়েছেন। অষ্টম শতাব্দীতে বাগদাদের উমাইয়া ও আব্বাসীয় খলিফারা ‘দারুল হিকমা’ নামের লাইব্রেরি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্লেটো, এরিস্টটলের মতো বিখ্যাত মনীষীর গ্রিক ভাষায় রচিত গ্রন্থগুলো আরবি ও লাতিন ভাষায় অনুবাদ করে মুসলমানরা ইউরোপের জ্ঞান-বিজ্ঞান সমৃদ্ধ করেছে। সমকালীন মিসরের কায়রোতে ‘বায়তুল হিকমা’ও অনুরূপ ভূমিকা পালন করেছে। প্রাচীন ভারতবর্ষে ইসলাম আগমনের আগে প্রচলিত শিক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও দর্শনেরও সংরক্ষণ করেছে মুসলমানরা পাঠাগার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।


গল্প হলেও সত্য

                                তথ্যযুক্তি কি অভিশাপ!

রাশেদ (ছদ্মনাম), একটি স্বনামধন্য স্কুলে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।  প্রতিদিন বিকালে সে স্কুল থেকে ফিরে একটু 
বিশ্রাম নিয়ে পড়তে বসে। ১১টা বাজলে পরিবারের সাথে রাতের খাবার শেষে করে।  পরিবারের সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন রাশেদ তার কম্পিউটারের সামনে বসে।

 কৈশর বয়সে প্রযুক্তির নতুনত্বের স্বাদ পেতে মধ্য রাত পর্যন্ত চলে বিভিন্ন ওয়েব সাইটে তার ঘুরে বেড়ানো। ফ্রেইন্ডশিপ ওয়েব সাইটে রেজিস্ট্রেশন ও মেইল আদান প্রদান, থ্রেড পড়া এবং ওয়েব ক্যামে অবাধ চ্যাট- এভাবেই প্রতি রাতে তার ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা সময় পার হয়।

 তার ব্যক্তিগত কম্পিউটারের হার্ড ডিস্কের বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে অনাকাঙ্ক্ষিত নানা ভিডিও চিত্র। মাল্টিমিডিয়া সুবিধাসমৃদ্ধ মোবাইল ফোন ও পেনড্রাইভের মাধ্যমে এসকল ভিডিও চিত্র মাঝে মধ্যে সে তার সহপাঠীদের দিয়ে থাকে। তার সহপাঠীরাও রাতের বড় একটি সময় ব্যয় করে কম্পিউটারের সামনে।

অবাধ তথ্য প্রযুক্তির যুগে কিশোর, তরুণ ও যুব সমাজের বড় একটি অংশ আশঙ্কাজনকভাবে জড়িয়ে পড়ছে নানা ধরনের সাইবার ক্রাইমে।

 সাইবার ক্রাইম থেকে পরবর্তীতে ঘটছে নানা ধরনের বড় বড় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। সমাজ বিজ্ঞানীদের মতে, নতুনত্বের প্রতি তরুণ সমাজের আসক্তি, সামাজিকভাবে সচেতনতার অভাব, পরিবারের উদাসীনতা, ধর্মীয় অনুশাসনের বাইরে জীবন যাপন, সুফল কুফল বিচার বিবেচনা না করেই প্রযুক্তির ব্যবহার, সঙ্গ দোষ, আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাবই মূলত সাইবার ক্রাইম সংঘটনের মূল কারণ। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগের গাফিলতিও এ জন্য অনেকাংশে দায়ী।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অলিতে গলিতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য সাইবার ক্যাফে। এ সকল ক্যাফেতে মূলত উঠতি বয়সীরাই বেশি ভিড় করে থাকে। স্কুল কলেজ ফাঁকি দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তারা এ সকল ক্যাফেতে সময় কাটায়। ফেসবুক, স্কাইপসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নামে বেনামে অ্যাকাউন্ট খুলে তারা জড়িয়ে পড়ছে নানা অপকর্মে।

 এ ধরনের কয়েকটি সাইবার ক্যাফেতে কথা বলে জানা গেছে, মূলত এখানে যারা আসে তারা ইন্টারনেটে চ্যাট বা কনভারসেশন করে বেশি সময় পার করে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন অশ্লীল ওয়েব সাইটে তারা প্রবেশ করে ভিডিওচিত্র সিডিতে বা পেনড্রাইভে ডাউনলোড করে নিয়ে যায়। পরে তা অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়।

 সরকারের টেলি কমিউনিকেশন রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ কিছুদিন আগে শতাধিক ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিলেও এখনো কয়েক হাজার অশ্লীল ও অরুচিকর ওয়েব সাইট বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। এসকল ওয়েব সাইটে ১৮ বছরের কম বয়সীদের প্রবেশে নামমাত্র একটি সতর্কতা নোটিশ দেয়া থাকে। যা বাস্তবিক অর্থে কেউই মানে না। এ সকল ওয়েব সাইট শুধু মাত্র নৈতিক অবক্ষয় সৃষ্টি করা ছাড়া আর কোনো কাজে আসে না।

ইদানীং মোবাইল ও কম্পিউটারের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফির মারাত্মক বিস্তার ঘটেছে। বিভিন্ন সিডি’র দোকান ও সাইবার ক্যাফের মাধ্যমে দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ছে। এ কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে মোবাইল ফোন।

 বর্তমানে দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট আইন বা নির্দেশনা নেই। কম দামী হওয়ায় মাল্টিমিডিয়া সুবিধা সম্বলিত হ্যান্ডসেট তরুণদের হাতে হাতে ঘুরে ফিরছে। ইন্টারনাল বা এক্সটারনাল মেমরীর মাধ্যমে মোবাইল ফোনে অশ্লীল ভিডিও চিত্রগুলো সংরক্ষণ ও ব্লু টুথ প্রযুক্তিতে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অন্যের মোবাইল ফোনে।

 এক্ষেত্রে সাইবার ক্রাইমের শিকার হচ্ছে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণী ও গৃহবধূরা।

সব কিছুরই ভালো-মন্দ উভয় দিক রয়েছে। প্রযুক্তির এ দু’টি দিক সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভের আগেই প্রযুক্তি আমাদের হাতে চলে আসে। তরুণ প্রজন্ম স্বাভাবিকভাইে নতুনত্বকে গ্রহণ করে। কুফল সম্পর্কে তারা সচেতন নয়।



তাই আইনের প্রয়োগের চেয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা বেশী জরুরী। পরিবারের অসচেতনতাও যুব সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের অন্যতম প্রধান কারণ। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন স্তর রয়েছে।

 সরকারি ও বেসরকারি সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোরও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে হবে। প্রযুক্তিকে ভালো কাজে ব্যবহার করতে হবে। বর্তমান তরুণ প্রজন্ম সুষ্ঠু বিনোদনের অভাব থেকেই মূলত ধ্বংসের পথে পা বাড়াচ্ছে।

 নৈতিক অধঃপতন থেকে তাদের ফেরাতে প্রতিটি পাড়ায় মহল্লায় লাইব্রেরী ও খেলাধুলার ক্লাব স্থাপন করতে হবে। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। পরিবারকে সন্তানের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। প্রযুক্তির অপব্যবহার বন্ধ করতে সরকারেরও সমান দায়িত্ব রয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০১৫

পরিচিতি

    ছানাউল্লাহ শামসের  ভার্চুয়াল জগতে স্বাগতম 


ক্যাপশন যুক্ত করুন